Home / মিডিয়া নিউজ / ‘এখন মরলেও তৃপ্তি নিয়ে মরতে পারবো’

‘এখন মরলেও তৃপ্তি নিয়ে মরতে পারবো’

ঢাকাই সিনেমায় ষাটের দশক থেকেই সফল পদচারণা সুজাতার। ১৯৬৫ সালের রূপবান চলচ্চিত্রে

অভিনয় করে পেয়েছিলেন রূপবান কন্যার খ্যাতি। সেই থেকে রূপালি পর্দার রূপবান তিনি।

অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে সোনালী যুগের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে অনেকটা নীরবে নিভৃতে জীবন কাটাছে তার। চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ পাচ্ছেন আজীবন সম্মাননা।

বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয় একসঙ্গে গত দুই বছরের (২০১৭ ও ২০১৮ সালের) পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। সেখান থেকে জানা গেছে ২০১৭ সালের আজীবন সম্মাননা তালিকায় রয়েছে সুজাতার নাম।

আজীবন সম্মাননা পাওয়ার খবরে বেশ উচ্ছ্বাসিত কণ্ঠে সুজাতা বলেন, যেকোনো প্রাপ্তিই আনন্দের। আজীবন সম্মাননা পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন একটি সম্মাননা সত্যি বেশ আনন্দদায়ক। চলচ্চিত্রের জন্য সারা জীবন যে শ্রম দিয়েছি, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছি। সেই কাজের উপহার হিসাবে পেলাম চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান। আমার দেশ আমার কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দিয়েছে- এখন মরলেও তৃপ্তি নিয়ে মরতে পারবো।

তিনি বলেন, বর্তমানে চলচ্চিত্রের অবস্থা বেশ একটা ভালো না। আমরা যখন কাজ করেছি তখন বাংলা সিনেমার সোনালী যুগ ছিল। এখন সিনেমা নির্মাণ কম হচ্ছে। তবে এর মধ্যে ইদানিং ফের ভালো কিছু সিনেমার খবর পাই। এভাবে ভালো সিনেমা নির্মাণ হলে সোনালী যুগ ফিরে না এলেও চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে। চলচ্চিত্রের জন্যই জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি, তাই মৃত্যুর আগে চলচ্চিত্রের ভালো অবস্থা দেখে যাওয়ার খুব ইচ্ছা।

বর্তমান সময় কিভাবে কাটছে জানতে চাইলে সুজাতা বলেন, বয়স হয়েছে, বর্তমানে সিনেমায় সেভাবে কাজ করছি না। আমি লেখালেখি পছন্দ করি। এ বছর একটি উপন্যাস প্রকাশ পেয়েছে। আগামী বছরের বই মেলায় আমার লেখা আরো তিনটি বই প্রকাশ হবে। বইগুলোর লেখালেখি করেই অবসর সময়টা কাটছে।

১৯৬৩ সালে সালাউদ্দিন পরিচালিত ‘ধারাপাত’ ছবিতে সহ-নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ‘সুজাতা’র। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০টি ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন সুজাতা। ‘রূপবান’ ছাড়াও ‘ডাক বাবু’, ‘জরিনা সুন্দরী’, ‘অপরাজেয়’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘কাঞ্চনমালা’, ‘আলিবাবা’, ‘বেঈমান’, ‘অনেক প্রেম অনেক জ্বালা’, ‘প্রতিনিধি’সহ তিনশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন এ জীবন্ত কিংবদন্তী।

অভিনয়ের বাইরে পরিচালনাো করেছেন সুজাতা। তার পরিচালিত একমাত্র চলচ্চিত্র ‘অর্পণ’। সুজাতা-আজিমের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থাগুলো হচ্ছে- ‘সুজাতা প্রোডাকশন্স’, ‘এস এ ফিল্মস’ ও ‘সুফল কথাচিত্র’। এ তিনটি প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ‘চেনা অচেনা’, ‘টাকার খেলা’, ‘প্রতিনিধি’, ‘অর্পণ’, ‘রূপবানের রূপকথা’, ‘বদলা’, ‘রং বেরং’, ‘এখানে আকাশ নীল’সহ বেশ কিছু ছবি।

Check Also

বুবলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?

শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। এই জুটির বক্স …

Leave a Reply

Your email address will not be published.