Home / মিডিয়া নিউজ / নিষাদ-নিনিদের মধ্যে বাবা হুমায়ূনের ছায়া

নিষাদ-নিনিদের মধ্যে বাবা হুমায়ূনের ছায়া

মানুষকে কোন না কোন সময়ে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়। তারপরও কিছু মানুষ বেঁচে থাকে

তাদের কর্মে, সুনামে, সৃজনীর মাধ্যমে। তেমনি একজন মৃত্যুঞ্জয়ী নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন

আহমেদ। তিনি মরে গিয়েও মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে। আর আজীবন

বেঁচে থাকবেন তিনি। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই এই নন্দিত কথাসাহিত্যিক আমাদের ছেড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। গতকাল ছিল তার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী।

তার মৃত্যুবার্ষিকীতে স্ত্রী শাওন মুখোমুখি হয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের। সেখানে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল।’ আমাকে দেখে তিনি বলেছিলেন,‘এগুলো পড়ো তো’ শাওন পড়ার পর তিনি বললেন, ‘সিলেক্টেড’। হুমায়ূনের কাছ থেকে শাওন প্রথম উপহার পেয়েছিলেন বই।

১৯৯৬ সালে প্রথম হুমায়ূন আহমেদের সাথে নেপাল ঘুরতে যাওয়া শাওনের। সাথে ছিল নাটকের শুটিং ইউনিট। শাওনের হাতের চিংড়ি মাছ ও ডাল ভুনা খেতে পছন্দ করতেন। হুমায়ূন আহমেদ খুব ভালো সমালোচক ছিলেন জানিয়ে শাওন বলেন, “উনি অনেক বিষয়ে সমালোচনা করতেন। উনি খুবই পছন্দ করতেন রংচঙে পোশাক। বিশেষ করে লাল বা নীল শাড়ি। আমি সাদা জামদানি বা এ-জাতীয় কিছু পরলেই বলতেন, ‘এটা কী পরছ; যাও, বদলে এসো।’ পোশাক নিয়ে তিনি খুবই সমালোচনা করতেন।”

নিষাদ-নিনিদের মধ্যে শাওন তাদের বাবার ছায়া দেখতে পান জানিয়ে শাওন বলেন, ‘নিষাদ খুব ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে। হুমায়ূন আহমেদ যেমন অনেক বই পড়তেন, অনেক বিষয়ে জানতেন এবং জানার চেষ্টা করতেন, সেটা আমার বড় ছেলে নিষাদের মধ্যে দেখি। ও এই বয়সে এত কিছু জানে যে আমার কাছেই অবাক লাগে। তাই আমার মনে হয়, বাবার মতো ওর ইন্টেলেকচুয়াল দিক থেকে মিল আছে। আর ছোট ছেলে নিনিতের মধ্যে আছে বাবার মতে একটু উইটি (বিচক্ষণ) স্বভাব।যেমন বন্ধুদের সঙ্গে মজা করা, দুষ্টুমি করা—এসব আছে। কঠিন মুখ করে এমন কথা বলে যে শুনে অন্যরা হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। যেটা হুমায়ূনের মধ্যেও ছিল।’

এক প্রশ্নের উত্তরে শাওন বলেন,‘আমরা বাংলাদেশিরা এখন যে জোছনা বিলাস করি। একটা বড় চাঁদ উঠলে সেটার ছবি তুলে দুই লাইন কবিতা লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই। এই যে জ্যোৎস্নাকে ভালোবাসার ব্যাপারটা, এটা আমাদের মধ্যে ঢুকিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। আবার একইভাবে বৃষ্টিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন তিনি। এর যেকোনো একটির জন্যই তো সারা জীবন মনে রাখা যায় তাঁকে।’

হুমায়ূন আহমেদ একজন কিংবদন্তী ছিলেন। সে তাঁর সৃষ্টি দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। নিজের সৃষ্টিকর্ম দিয়ে তিনি মানুষের মনে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।

Check Also

নতুন ‘সংসার’ শুরু করলেন অপু বিশ্বাস!

বিনোদন ডেস্ক : এক দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় ১০০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ‘ঢালিউড কুইন’ খ্যাত চিত্রনায়িকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *