Home / মিডিয়া নিউজ / লিভ টুগেদারে সমালোচনার জন্ম দেওয়া জুটিগুলো!

লিভ টুগেদারে সমালোচনার জন্ম দেওয়া জুটিগুলো!

কটু কথা ভেবে কেউ এড়িয়ে যাবেন না। যেমন এইডস সম্পর্কে কারো অজানা থাকা উচিত নয়।

বর্তমান সমাজে, বিশেষ করে নিয়ন আলোর শহরে ভয়াবহ ব্যাধির নাম ’লিভ টুগেদার’। বাংলা অর্থ

করলে বিবাহ বহির্ভৃত নর-নারীর একসাথে বসবাস। লিভ-টুগেদার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরকীয়ার ফল।

যখন কেউ পরকীয়ায় মত্ত হয়ে যায়। তখনই লিভ টুগেদার শুরু হয়। এছাড়াও রয়েছে আরো অনেক কারণ। এটাকে অনেকে বলে থাকেন ’পার্সোনাল কিলিং’। নতুন কোনো সম্পর্ক সৃষ্টি না। এর ফলে একটা পরিবার খুন হয়। সামাজিক অবক্ষয় আর মূল্যবোধ খুন হয়।

সামাজিক স্বীকৃতি না থাকলেও সাম্প্রতিককালে ঢাকায় আশঙ্কাজনকহারে লিভ টুগেদার বাড়ছে। ঢাকার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলোর ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমনকি সাধারণ কর্মচারীরা পর্যন্ত লিভ টুগেদার করছে। শোবিজে লিভ টুগেদার এখন সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জাতীয়ভাবে পরিচিত শোবিজের অনেক স্টার এখন লিভ টুগেদার করছেন।

কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টানা যায়। নারী নিপীড়ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আবু জাফর মোহাম্মদ কার্লোস নামের এক আন্তর্জাতিক ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে জড়িয়ে মিডিয়ায় আলোচিত হচ্ছে বেশ কজন মডেল অভিনেত্রীর নাম। অনন্য মামুন পরিচালিত ’অস্তিত্ব’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক কার্লোস। অস্তিত্ব সিনেমা বানানোর পর কার্লোস ঢাকার সিনেমা পাড়ার নামী-দামি নায়িকাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এসব নায়িকার অনেককে নিয়ে তিনি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যাতায়াত শুরু করেন। এদের কয়েক জনের সঙ্গে তিনি লিভ টুগেদারও করছিলেন।

রাজধানীর পরীবাগের ফ্ল্যাটে চিত্রনায়িকা সাবিনা রিমাকে নিয়ে তিনি লিভ টুগেদারে মেতেছিলেন বছরখানেক ধরে। এছাড়া ফ্যাশন হাউস এক্সটেসির মডেল তানভিয়া জামান মিথিলার সঙ্গে তার লিভ টুগেদার চলছিল বলেও জানা গেছে। কার্লোসের সঙ্গে জড়িয়ে মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া বিপাশা, তানভিয়া জামান মিথিলা, পিয়াসাসহ অনেকের নাম এখন আলেচিত হচ্ছে। এসময়ের অন্য একটি আলোচিত ঘটনা হাবিব ওয়াহিদ ও তানজীন তিশা। হাবিবের সাবেক স্ত্রী অভিযোগ তুলেছে হাবিব তিশার সাথে লিভ টুগেদার করে।

শোবিজের লিভ টুগেদার নতুন কিছু নয়। অনেকদিন থেকেই অনেকজন লিভ টুগেদার করছে। নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে অনেকেই তাদের সম্পর্কটাকে সামাজিক রূপ দিচ্ছে না। বিয়েকে একটি বড় বাধা মনে করেন তাঁরা।
একটু খোঁজ নিয়ে লিভ টুগেদারের অনেকগুলো কারণ পাওয়া যায়। অভিজাত এলাকায় এর শুরু। পাশ্চত্য সংস্কৃতির ভূত বহুকাল ধরেই এদেশেও চেপে আছে। নারী-পুরুষ কেউই দায়িত্ব নিতে চায় না। কিন্তু জৈবিক চাহিদা তো এড়ানো সম্ভব নয়। ফলশ্রুতিতে লিভ টুগেদার একমাত্র উপায়। অজস্র টাকা হাতে এলে যা হয়। নিয়ম ভাঙার খেলায় মাতে। আজকাল এমন অনেকের সন্ধান মেলে যাদের সামাজিক স্বীকৃত বিবাহিত বউ থাকা অবস্থায় লিভ টুগেদার করছে। ওই যে টাকার খেলা। টাকা দিয়ে কোন নারীকে বাসা ভাড়া করে দিচ্ছে। সেই বাসায় মাঝে মাঝে যাচ্ছে-আসছে। আশেপাশের মানুষ জানছে তার স্বামী। কিন্তু তার যে অন্য কোথাও সংসার রয়েছে। এখানে সাময়িক সময় কাটানো। এমনটা হচ্ছে কম বয়সীদেরও। তারা বিয়ে করছে বলে অনেক সময় অনেক বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। কিন্তু বাড়িওয়ালারা কিছু না জেনেই ভাড়া দেয়।

লিভ টুগেদারের ঘটনা অহরহ। আমরা কানাঘুষা করে অনেকের সম্পর্ককেই জানি। কিন্তু এটা প্রকাশ্যে আসে যখন এর দ্বারা সমাজে কোনো অপরাধ সংগঠিত হয়। অপরাধের কথা শুনে নিশ্চয়ই আপনার চোখে গেল কয়েক বছরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ভেসে উঠবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গেল কয়েক বছরে রাজধানীতে যদি গড়ে দশটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে নারী হত্যাকাণ্ড হলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেরিয়ে এসেছে পেছনে লিভ টুগেদারের বিড়ম্বনা। পুরুষের সংখ্যাও কম নয়।
দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। এক পর্যায়ে মনোমালিন্য বা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাঁকে খুন করে পালিয়েছেন ছেলেটি। শিকদার মেডিকেল কলেজের সেই শিক্ষার্থীর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? সাউদিয়া আক্তার ওরফে মিথির (২৩) লাশ রায়েরবাজারের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এক যুবকের সঙ্গে লিভ টুগেদার করতেন। পরে মেয়েটি গর্ভবতী অবস্থায় খুন হন।

এর আগে মিরপুর এলাকায় খুন হয় সুরাইয়া নামের এক যুবতী। তিনি চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তাকে খুন করে বাসায় লাশ রেখে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে চলে যায় যুবক সুমন রহমান। পরে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক ধরে লিভ টুগেদার করতেন সুমন ও সুরাইয়া।

এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ পাওয়া যায় গাজীপুরের শালবন এলাকায়। পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা এলাকায় একটি বাড়িতে দুই-তিন বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে তিনি স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া থাকতেন। রাজধানীর গুলশান এলাকায় বাসার ভেতরে এক তরুণীকে খুন করে পালিয়ে যায় ঘাতক। তারাও ভাড়া থাকতো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে।

শাহাবুদ্দীন নাগরী। বয়স ৬২ বছর। অনেক পরিচয় তার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)সাবেক এই কর্মকর্তা একজন কবি ও গীতিকার। একই সঙ্গে তিনি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সুরকার, গায়ক এবং নাট্যকার হিসেবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত। একজন আধুনিক রোম্যান্টিক কবি হিসেবেও পরিচিত শাহাবুদ্দীন নাগরী, বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে ফেঁসে যান। বন্ধুকে খুনের অভিযোগ ওঠে। নিহত ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের বাসায় অবাধ যাতায়াত ছিল তাঁর। অভিযোগ রয়েছে, শাহাবুদ্দীন নাগরীর সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর ’ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই নারীকে তিনি নিয়মিত উপহারও দিতেন।

মডেল সাবিরা হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে ফটোগ্রাফার নির্ঝর সিনহার পরিচয় হয়েছিল। নির্ঝরের ফটো তোলার প্রস্তাবে সাড়া দিতে গিয়েই গড়ে ওঠে দুজনের বন্ধুত্ব। সেটা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এতোটাই গভীর হয়ে ওঠে তাদের সম্পর্ক, কিছুদিন তার সাবলেটে বাসা নিয়ে লিভ টুগেদারও করেছেন।

দুজনের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে জানা গেছে নির্ঝর-সাবিরার প্রেম এবং বিবাহ বহিভূর্ত বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলার কাহিনী। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় সাবিরাকে কিছুদিন ধরে এড়িয়ে চলতে শুরু করে নির্ঝর। শেষে উপায় না পেয়ে সাবিরা প্রেমিকের বাসায় গিয়ে হাজির হন বিয়ের দাবি নিয়ে। ওই সময় নির্ঝরের ভাই প্রত্যয় তার সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করে বাসা থেকে বের করে দেয়। এইঘটনা মেনে নিতে না পেরে সাবিরা আত্মহত্যা করে। ফেসবুকের মাধ্যমে যেহেতু নির্ঝরের সঙ্গে তার সম্পর্ক, তাই আত্মহত্যার আগে ফেসবুকের স্ট্যাটাসে সাবিরা সুইসাইড নোট দিয়ে যান।

সমাজের সব স্তরেই লিভ টুগেদার নামের চর্চা ছড়িয়ে পড়ছে। সদ্য গ্রাম থেকে এসে ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছেলেমেয়েরা লিভ টুগেদার করছে। কেবলমাত্র পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন; কিন্তু কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি- এমন অনেক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন।

ঢাকার একটি নামকরা মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন- তাঁর জানা মতে, তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম করে হলেও ১০০ জোড়া ছেলেমেয়ে লিভ টুগেদার করছে। বিষয়টি তাদের কাছে ওপেন সিক্রেট হলেও কেউ কাউকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন না। ওই শিক্ষার্থী লিভ টুগেদারকে খারাপ কিছু মনে করেন না। তাঁর ভাষায় দু’ জনের মতের মিলেই তাঁরা লিভ টুগেদার করেন। এখানে অপরাধ কিছু নেই।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা লিভ টুগেদার করছেন। তাদের লিভ টুগেদারের কথা জানে তাদের অনেক ছাত্রও। ওই শিক্ষকদের একজন তাঁর এক নিকটজনের কাছে বলেছেন, লিভ টুগেদারকে তিনি বরং গর্বের বিষয় মনে করেন।

অনেকের মতে, লিভ টুগেদারের ধারণা খারাপ নয়, আমরা কেউ কারও বোঝা নই, আইনি বন্ধনও নেই। কারো ভালো না লাগলে তিনি একসঙ্গে না-ও থাকতে পারেন। এতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এ প্রবণতার কিছু কারণ জানা গেছে। তাদের মতে, যে সব মেয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করে, নিজেদেরকে ইউরোপ-আমেরিকা বা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাঁরা এখনই বিয়ে করে ছেলেমেয়ের ভার নিতে চান না। টানতে চান না সংসারের ঘানি। ওইসব মেয়ে নিজেদেরকে বিবাহিত বলে পরিচয় দিলে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন। আবার এমন অনেক ছেলেও আছেন, যারা ওই সব মেয়ের মতো ধারণা পোষণ করেন না; তারা কেবলমাত্র জৈবিক কারণে লিভ টুগেদার করছেন। অর্থবিত্তে বা চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত এমন অনেকে লিভ টুগেদার করছে কেবলমাত্র সমাজে তাঁর একজন সঙ্গীকে দেখানোর জন্য, নিজের একাকিত্ব ও জৈবিক তাড়নায়। অনেকে বিয়ের প্রতি প্রচণ্ড রকম অনাগ্রহ থেকেও লিভ টুগেদার করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছেলেমেয়েদের লিভ টুগদোর। ওয়েস্টার্ন সোসাইটির প্রতি এক ধরনের অন্ধ আবেগ ও অনুকরণের পাশাপাশি জৈবিক চাহিদা মেটাতে তারা লিভ টুগেদার করছেন। আবার ঘন ঘন তাদের লিভ টুগেদারে বিচ্ছেদও ঘটছে। সহসা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে খুনের মতো অপরাধ।

Check Also

নতুন ‘সংসার’ শুরু করলেন অপু বিশ্বাস!

বিনোদন ডেস্ক : এক দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় ১০০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ‘ঢালিউড কুইন’ খ্যাত চিত্রনায়িকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *