Home / মিডিয়া নিউজ / স্টেজের লাইটটা জ্বলে উঠলেই মনে হয় ওটা আমার….

স্টেজের লাইটটা জ্বলে উঠলেই মনে হয় ওটা আমার….

র‍্যাম্প কন্যা বলতেই পরিচিত কিছু মুখের মাঝে চলে আসে শাবনাজ সাদিয়া ইমি। নানা তর্ক-বিতর্ক

বা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে র‍্যাম্পে বেশ দাপটের সাথেই হেঁটে বেড়িয়েছেন তিনি।

প্রিয়.কম কথা বলেছিল সেই র‍্যাম্প কন্যার সাথে। প্রিয়.কম: র‍্যাম্প কন্যা ইমির মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু কীভাবে?

ইমি: আমার মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু ২০০১ সালে। বিবি রাসেলের অনুপ্রেরণায় ’ডি এইচ এল ফ্যাশন শো’য়ের মাধ্যমে র‍্যাম্পের জগতে পা রাখি। এরপর ২০০২ এ ’ইউ গট দ্য লুক’ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হবার পর আসলে পুরোপুরি র‍্যাম্প এবং মডেলিংয়ের কাজের জগতে প্রবেশ করি। প্রিয়.কম: এই জগতে আসার অনুপ্রেরণায় কে ছিলেন?

ইমি: আমাকে তো প্রথম মা এবং ছোট খালামনি বিবি রাসেলের কাছে নিয়ে যান। তাই অনুপ্রেরণা তারাই। প্রিয়.কম: র‌্যাম্প মডেল হিসেবে ইমি বেশ জনপ্রিয়, এই জনপ্রিয়তা কীভাবে উপভোগ করেন?

ইমি: র‍্যাম্পে হেঁটে চলা বা টিকে থাকাটা সবাই যতটা সহজ মনে করে আসলে ততটা সহজ না। অনেকেই এখানে আসেন। এসে কষ্টটা দেখে চলে যান। কিন্তু আমি এই কষ্টকে ধরে রেখে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখনও টিকে আছি। যখন নতুন কেউ কাজ করতে এসে বলে ’ইমি আমার আইডল’ তখন এমন একটা ভালোলাগা কাজ করে যা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। দেখা যাচ্ছে যে, তিনি আমাকে কখনও সামনাসামনি দেখেনওনি কিন্তু আমার নামটা সবার আগেই নিচ্ছেন। দেখা হলে আন্তরিকতার সাথে বলছেন, ’আপু, পেপারে আপনার ছবি দেখলেই কেটে রেখে দিই। আপনার কোনো সাক্ষাৎকার পেলেই তা পড়ি’। এমনকি আমার সাথে এখন কাজ করছেন এমন সহকর্মীরাও একইভাবে পছন্দ করে, তাদের ভালোলাগার অনুভূতিগুলো আমার কাছে প্রকাশ করে। তখন আমার মাঝে যে একটা ভালোলাগা তৈরি হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।এই কথাগুলো পুরোটাই অনুভবের বিষয়। আমি কী করি না করি সেগুলো ফলো করা, খবর রাখা এইগুলো আসলে আমার বয়সের তুলনায় আমার জীবনে বড় পাওয়া। আর যেটা পেয়েছি এটা যখন চিন্তা করি তখন এই পথে আসার সব কষ্টগুলোর কথা ভুলে যাই। প্রিয়.কম: প্রতিকূলতার কথা যখন আসলোই, কী কী প্রতিকূলতা পার হয়ে এসেছেন?

ইমি: আমাদের দেশে শুধু র‍্যাম্পে না যেকোনো ব্যাপারেই একটা মেয়ে বড় কিছুতে পদক্ষেপ রাখতে গেলে তাকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা পার করতে হবেই। পাড়া প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজন বলি না কেন, সবাই কেমন যেন একটা বাধা তৈরি করে দেন। যেমন; এই জগতে আসার পর আমার বাবা আমার সাথে অনেকদিন কথা বলেননি। তার খুব আদরের মেয়ে হঠাৎ এই জগতে আসাটা হয়তো মানতে পারেননি। অথচ আমার বিভিন্ন অর্জনের পর এখনও বাবাই আমাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। সাথে আত্মীয়-স্বজন আছে। আর সমাজ কারো ব্যাপারে নেগেটিভ চিন্তা করতে বেশি সময় নেয় না। আমি কেন রাতে বের হতাম, কোথায় যেতাম শো করতে এটা সবাই খেয়াল করতো, কথা বলতো তা নিয়ে। অথচ আমি কখন ফিরছি বা শো এর কাজ শেষে ঐ রাতের মধ্যেই যে বাসায় ফিরে আসছি এটা আর দেখার বা বলার কাউকে দেখিনি। এইসব সামাজিক গুঞ্জন শুনে আসতে হয়েছে সব সময়। ’কী হবে এসব করে’, ’যেটা করছে অনেক খারাপ করছে’ এমন কথা বহুবার শুনতে হয়েছে। মিডিয়াতে থেকেও মিডিয়া পারসনরাও এমনভাবে বলেছে। অথচ আমি কোনোদিন তাদের কাউকে বলতে যাইনি ’আপনি কেন নাটক করছেন’, ’কী হবে এসব করে’ ইত্যাদি। কারণ আমি স্বপ্নের মূল্য বুঝি। এমন না যে ফ্যাশন শো-তে পারিশ্রমিক অনেক বেশি বা কাজ কম। এখানে যারা আছেন তারাই জানেন পরিশ্রমটা কেমন। চাইলে আমার ক্যারিয়ার আমি অন্যদিকে নিতে পারতাম। তাতে ইনকামও হয়তো বেশি আসতো। কিন্তু আমার স্বপ্নটা আমি বড় করে দেখেছি। সবাইকে বোঝাতে পেরেছি। তাই এইসব প্রতিবন্ধকতাগুলো থেকে পার হতে পেরেছি। যে যাই বলুক, যাই করুক, আমার কষ্টের সফলতা আমি নিজেই আনতে পেরেছি। তবুও যখন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তাম তখন আমার বাবা, মা পরিবারের আর সবাই আমাকে তুলে ধরতেন। প্রিয়.কম: এই গ্ল্যামার এতোটা বছর ধরে রাখার রহস্য কী?

ইমি: আমার এই গ্ল্যামারের রহস্য কিন্তু আমি নিজেও জানি না। আসলে আল্লাহপ্রদত্ত কিছু ব্যাপার থাকে। আমার চেয়ে জুনিয়র যারা কাজ করছেন ওরা যে মেকআপটা করেন দেখা যায় অনেক সময় তাদের বয়সের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক লাগছে। আমার চেয়েও বয়স্ক লাগছে। তাই মনে করি সবারই মেকআপ সেন্সটা রাখতে হবে। পাশাপাশি নেগেটিভ চিন্তা কমাতে হবে। খারাপ চিন্তা শুধু মন না, চেহারাও খারাপ করে দেয়। পাপ বাড়িয়ে দেয়। তো পাপ থেকে যত দূরে থাকা যায় তত নিজেকে সুন্দর রাখা যায়। হাসিখুশি মানুষের মাঝে সবসময় ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হয়। যেটা তাকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। আমার কষ্ট থাকলেও কষ্ট বেশিক্ষণ ধরে রাখি না নিজের মাঝে। নিজেকে এই ওভারকাম করাটাও গ্ল্যামার ধরে রাখার মধ্যে পড়ে।

প্রিয়.কম: বিভিন্ন সময় বিতর্কিত গল্পের কথা শোনা যায়। এ ব্যাপারে কিছু বলুন… ইমি: বিতর্ক আমিও শুনি। আগে এগুলো খুব মন দিয়ে পড়তাম। বিরক্ত হতাম। তখন বুঝতাম না ছোট ছিলাম। ভাবতাম কেন এইসব বলে। কিন্তু এখন পড়ি, তারপর মন দিয়ে হাসি। যেমন; রিসেন্টলি শুনলাম আমার অমুকের সাথে সম্পর্ক চলছে বা বিয়ে হয়ে গেছে এমন। অথচ আমি নিজেও জানি না কখন এসব হচ্ছে। আর আমি কী করছি আমাকে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়। বিয়ে হলে তো জানিয়েই করবো। সেই ঢাক ঢোলের শব্দ কিছুটা হলেও কারো কারো কানে পৌঁছাবে। কিন্তু এভাবে তো নয়। শাবনাজ সাদিয়া ইমি। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম। প্রিয়.কম: র‍্যাম্পে হাঁটার আগে কেমন প্রস্তুতি নেয়া হয়?

ইমি: পুরোটাই কনফিডেন্সের ব্যাপার। প্রতিটা পদক্ষেপ অনেক কনফিডেন্স নিয়ে ফেলতে হয়। আমার সাথে অনেককেই দেখি আগে থেকে অনেক প্রিপারেশন নিয়ে অনেকবার রিহার্সাল করেও নার্ভাস থাকে। কিন্তু আমার মধ্যে কেন যেন এই ব্যাপারটা কখনোই কাজ করে না। জীবনে কোনো শোতে নার্ভাস ছিলাম না। কারণ আমি ভাবি এইভাবে যে, বাসায় আমরা হাঁটাহাঁটি করি না? তখন কী নার্ভাস হই? হই না। ওভাবে ভেবেই হেঁটে আসি প্রতি সময়। র‍্যাম্পের ঐ লাইটটা জ্বলে উঠলেই মনে হয় লাইটটা আমার জন্য জ্বলেছে।
প্রিয়.কম: র‍্যাম্পের বাইরে টিভিতে কী কী করা হয়েছে?
ইমি: ওভাবে বললে টিভির কাজগুলো আসলে কখনোই কাউন্ট করা হয়নি। বড় কথা আমার মনেও নেই তেমন বিশেষ। আগের কাজের মধ্যে আছে তখন ওয়ারিদ মানে এখন যেটা এয়ারটেল এর অ্যা করেছিলাম, মিথিলা ছিলেন সাথে। ’ইত্যাদি’তে ’মর্জিনার বাপ মার্কা মারা’ তাতে মর্জিনা ছিলাম, ইত্যাদিতেই এন্ড্রু কিশোরের ’গল্পটার শুরু ছিল খুব সুন্দর’ গানে নোবেল, মোনালিসার সাথে ছিলাম। এছাড়া নির্ঝরের গান ’তবু আমাকে আর পাবে না’ এই গানের মিউজিক ভিডিওতে আমি ছিলাম। আমার নাচের প্রতি অনেক আকর্ষণ ছিল সব সময়। তাই চ্যানেল ওয়ানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে একটা সালসা নাচের শো করি, সাথে ছিলেন মডেল ফারদিন। এগুলোর কথা আগেই বললাম কারণ র‍্যাম্পের পাশাপাশি দর্শক জনপ্রিয়তা যাকে বলে তা এই কাজগুলোই এনে দিয়েছিল। এখন তো আসলে অনেক ব্যাপার জোর করে মনে রাখতে হয়, জোর করে জনপ্রিয়তা আনতে হয়। কিন্তু এই কাজগুলো বুঝিয়েছিল পরিচিত হবার অনুভূতি। এরপর নাটক, টেলিফিল্ম করেছি অনেক। আপাতত নাম মনে পড়ছে ’নবম প্রহর’, ’চতুষ্কোণ’ আর একটা মনে পড়ছে যেটা দেখে আমার মা কেঁদেছিলেন তা হচ্ছে অনিমেষ আইচের বিরঙ্গনাদের নিয়ে একটা নাটক হয় ’আমিরজান’। সেটায় বীরাঙ্গনা যিনি ছিলেন তার যুবতী বয়সটার চরিত্রে আমি ছিলাম। প্রিয়.কম: বলিউড কন্যা কঙ্গনার সাথে আপনার অনেক মিল, এটা কতবার শুনেছেন?

ইমি: অনেকবার। আসলে আমাদের চুলটা একরকম তো তাই হয়তো একই রকম লাগে দেখতে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে অনেক মিল পাই। আসলে ব্যাপারটা উল্টে বলা উচিৎ কারণ কঙ্গনার আগে আমি মিডিয়াতে এসেছি। বলা উচিৎ আমার মতন দেখতে তিনি। আর যেটা মিল পাই সে যে চরিত্রগুলো করে তার মধ্যে আমার কাজকর্মের একটা ছোঁয়া পাওয়া যায়। তাই হয়তো এমনটা লাগে। প্রিয়.কম: বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

ইমি: বর্তমান ব্যস্ততা বলতে আগেই বলেছি নাচের প্রতি আমার একটা আলাদা টান আছে। তো কিছুদিন আগেই নেপাল থেকে ফিরলাম। সেখানে নেপাল-বাংলাদেশ ক্লাব নাইটে রুপম, আলিফ গান গেয়েছিল আর নিজে একটা ড্যান্সের কোরিওগ্রাফি করে আরও ড্যান্সার নিয়ে নিজে একটা পারফরমেন্স করি। এছাড়া প্রথম আলোর বিয়ে উৎসব, আর টিভির বসন্ত উৎসব, ভ্যালেন্টাইন্সের জন্য রাঙ্গামটিতে ’ভ্যালেন্টাইন নাইট শো’। প্রিয়.কম: এমন কোনো স্বপ্ন যা পূরণ করার ইচ্ছা আছে?

ইমি: বড় পর্দায় কাজ করবো এমন কোনো স্বপ্ন নেই, তবে টালিউডের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং আবীর চট্টোপাধ্যায় এর সাথে কাজ করার অনেক স্বপ্ন। প্রিয়.কম: অবসরে কী করা হয়? ইমি: ইন্টারনেট ঘেটে নতুন নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড দেখি, বিশ্ব মার্কেটে এখন কী চলছে। আর অনেক মুভি দেখি, গান শুনি, গাড়ি ড্রাইভ করতে পছন্দ করি।
সম্পাদনা: ফারজানা রিংকী

Check Also

অপু বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে চান মাহি

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি। একাধিক ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। গতকাল (সোমবার) …

Leave a Reply

Your email address will not be published.